বন্দনা ও সুত্র সমূহ

 

বন্দনা ও সুত্র সমূহ


ভোরে ঘুম থেকে উঠে মুখ হাত ধুঁয়ে প্রথমে বুদ্ধ আসনের পানি, ফুল, মোমবাতি, আগরবাতি, সোয়াং  দিয়ে বন্দনাদি করবেন। সন্ধ্যা সময়ও অনুরুপভাবে বন্দনাদি করবেন।

ত্রিরতœ বন্দনা
বুদ্ধং বন্দামি,
ধম্মং বন্দামি,
সঙ্ঘং বন্দামি,
অহং সব্বদা।
দুতিযম্পি, ততিযম্পি।

সকল চৈত্য বন্দনা
বন্দামি চেতিযং সব্বং, সব্বট্ঠানেসু পতিট্ঠিতং।
সারীরিক ধাতু মহাবোধিং বুদ্ধরুপং সকলং সদা’তি।

দন্ত ধাতু বন্দনা
একা দাঠ্ াতিদসপুরে, নাগপুরে অহু ।
একা গা›ধার বিসযে, একাসি পূন সিহলে।
চতস্সো তা মহাদাঠা, নিব্বাণ রসদীপিকা ,।
পুজিতা নরদেবেহি, তা’পি বন্দামি ধাতুযো ।

শ্রীপাদ বন্দনা
যং নম্মদায নদীযা পুলিনে চ তীরে।
যং সচ্চবদ্ধ গিরিকে সুমনা চলগ্গে ।
যং তত্থ যোনকপুরে মুনিনো চ পাদং,
তং পাদলাঞ্জন বরং সিরসা নমামি ।

বোধি বন্দনা
যস্সমূলে নিসিন্নোব, সব্বারি বিজযং অক্ া।
পত্তো সব্বঞঞূতং সত্থা বন্দেতং বোধিপাদপং ।
ইমেহে তে মহাবোধি লোকনাথেন পূজিতং ।
অহম্পিতে নমস্সামি বোধিরাজা নমত্থুতে।

বুদ্ধের নয় গুণ বন্দনা
ইতি’পি সো ভগবা অরহং, সম্মাসম্বুদ্ধো, বিজ্জাচরণং সম্পন্নো, সুগতো, লোকবিদু, অনুত্তরো, পরিসদম্ম সারথি, সত্থা দেব মনুস্সানং, বুদ্ধো ভগবা’তি।
বুদ্ধং যাব মহাপরিযন্তং সরণং গচ্ছামি,
যে চ বুদ্ধা অতীতা চ, যে চ বুদ্ধা অনাগতা।
পচ্চুপন্না চ যে বুদ্ধা, অহং বন্দামি সব্বদা।
নত্থে মে সরণং অঞ্ঞং, বুদ্ধো মে সরণং বরং,
এতে সচ্চবজ্জেন হোতু মে জয় মঙ্গলং।
উত্তমঙ্গেন বন্দে’হং, পাদপংসু বরুত্তমং,
বুদ্ধো যো খলিতো দোসো, বুদ্ধো খমতু তং মমং।


ধম্মের ছয় গুণ বন্দনা
স্বাক্খাতো ভগবতো, সন্দিট্এিকা, অকালিকো, এহিপসসিকো, ওপনায়িকো পচ্চতং, বেদিতব্বো বিঞ্ঞূহী”তি।
ধম্মং যাব মহাপরিযন্তং সরণং গচ্ছামি,
যে চ ধম্মা অতীতা চ, যে চ ধম্মা অনাগতা।
পচ্চুপন্না চ যে ধম্মা, অহং বন্দামি সব্বদা।
নত্থে মে সরণং অঞ্ঞং, ধম্মো মে সরণং বরং,
এতে সচ্চবজ্জেন হোতু মে জয় মঙ্গলং।
উত্তমঙ্গেন বন্দে’হং, ধম্মঞ্চ তিবিধং বরং,
বুদ্ধো যো খলিতো দোসো, ধম্মো খমতু তং মমং।

সঙ্ঘের নয় গুণ বন্দনা

সুপটিপন্নো ভগবতো সাবকসঙ্ঘো, উজুপটিপন্নো ভগবতো সাবকসঙ্ঘো, ঞায়পটিপন্নো ভগবতো সাবকসঙ্ঘো, সমীচিপটিপন্নো ভগবতো সাবকসঙ্ঘো, যদিদং চত্তারি পুরিসয়ুগানি, অট্ঠ পুরিসপু¹লা, এস ভগবতো সাবকসঙ্ঘো, আহুণেয্যো, পাহুণেয্যো, আহুণেয্যো, দক্িখণেয্যো, অঞ্জলি করণীয্যো, অনুত্তরং পুঞ্ঞক্খেত্তং লোকস্সা’তি।

সঙ্ঘং যাব মহাপরিযন্তং সরণং গচ্ছামি,
যে চ সঙ্ঘা অতীতা চ, যে চ সঙ্ঘা অনাগতা।
পচ্চুপন্না চ যে সঙ্ঘা, অহং বন্দামি সব্বদা।
নত্থে মে সরণং অঞ্ঞং, সঙ্ঘো মে সরণং বরং,
এতে সচ্চবজ্জেন হোতু মে জয় মঙ্গলং।
উত্তমঙ্গেন বন্দে’হং, সঙ্ঘঞ্চ দ্বিবিধূত্তমং,
বুদ্ধো যো খলিতো দোসো, সঙ্ঘো খমতু তং মমং।

বুদ্ধ, পচ্চেক বুদ্ধ, ধম্ম, সঙ্ঘ, আচায্য উপাধ্যায় ও চৈত্য বন্দনা।
বুদ্ধাধম্মা চ পচ্চেক বুদ্ধ, সঙ্ঘ চ সামিকা
দাসো’ বা হস্মি মে তেসং,গুণং ঠাতু সিরে সদা।
তিসরণং তিলক্খানূপেক্খং নিব্বানমন্তিমং সুখং,
সুবন্দে সিরসা নিচ্চং, লবামি তিবিধংমহং।
তিসরণঞ্চ সিরে ঠাতু, সিরে ঠাতু তিলক্খণং,
উপেক্কা চ সিরে ঠাতু, নিব্বানং ঠাতু মে সিরে।
বুদ্ধে সকরুণে বন্দে, ধম্মে পচ্চেক সম্বুদ্ধে।
সঙ্ঘে চ সরসা য়েব, তিধা নিচ্চং নমাম্যহং।
নমামি সত্থুনোবাদপ্পমাদ, বচন্তি মং।
সবেব পি চেতিয়ে বন্দে, উপজ্ঝাচরিয়ে মমং।
ময়ং পণাম তেজেন, চিত্তং পাপেহি মুঞ্চতংতি।

প্রদীপ পূজা গাথা
ঘনসারপ্পদিত্তেন দীপেন তমধংসিনা,
তিলোকদীপং সম্বুদ্ধং পূজয়ামি তমোনুদং।

ধুপ পূজা গাথা
গন্ধ সম্ভারয়ুত্তেন ধুপেনাহং সুগন্ধি না,
পূজয়ে পূজানেয়্যন্তং পূজাভাজন মুত্তমং।

আহার পূজা গাথা
অধিবাসেতু নো ভন্তে ভোজনং পরিকপ্পিতং,
অনুকম্পং উপাদায় পতিগণহাতু মুত্তমং।

পানীয় পূজা গাথা
অধিবাসেতু নো ভন্তে পানীয়ং পরিকপ্পিতং,
অনুকম্পং উপাদায় পতিগণহাতু মুত্তমং।

গিলান প্রত্যয় পূজা গাথা
অধিবাসেতু নো ভন্তে গিলান পচ্চয় ভেসজ্জং পরিকপ্পিতং,
অনুকম্পং উপাদায় পতিগণহাতু মুত্তমং।

তাম্বুল পূজা গাথা
নাগবল্লিদলপেতুং চুন্নপুগ সমায়ুতং,
তাম্বুলং পতিগণহাতু সতং পূজেমি তং জিনং।

বুদ্ধ পূজোপলক্ষে দীপ, ধুপ, পুষ্প, জল ও আহার ইত্যাদি উৎসর্গ
ইতি পি নিরোধ সমাপত্তিতো ইট্ঠহিত্বা বিয় নিসিন্নস্স ভগবতো অরহতো সম্মাসম্বুদ্ধস্স ইমিনা পুপ্ফেন, উদকেন-দীপেন-ধুপেন-আহারেন পূজেমি পূজেমি পূজেমি। ইদং পুপ্ফং পূজং- উদক পূজং -দীপ পূজং -ধুপ পূজং -আহার পূজং বুদ্ধ-পচ্চেক বুদ্ধ-অ¹সাবকÑমহাসাবক-অরহন্তানং সভাবসীলং অহম্পি তেসং অনুবত্তকো হোমি। ইদং পুপ্ফং-উদকং-দীপং-ধুপং-আহারং দানি বন্নেনপি সুবণœং গন্ধেনপি সুগন্ধং সন্ঠানেনপি সুসন্ঠানং খিপ্পমেব দুব্বণœং দু¹ন্ধং দুসসন্ঠানং অনিচ্চতং পাপুনিস্সতি। এব মেব সব্বে সঙ্খারা অনিচ্চা সব্বে সঙ্কারা দুক্কা সব্বে ধম্মা অনত্তাতি। ইমিনা বন্ধনা-মানন-পূজাপটিপত্তি অনুভাবেন আসবক্খয় বহং হোতু, সব্বা দুক্খা পমুঞ্চতু।

সীবলী পূজা উৎসর্গ
ইতি পি সো অরহং লাভীনং অগ্গো সেটঠো সীবলী নাম মহাথেরং ইমেহি নানাবিদেহি খজ্জ-খোজ্জ-দীপ-ধুপ-পুপফ-উদকাদীহি পূজোপচারেহি পূজেমি পূজেমি পূজেমি। ইমিনা পূজা-সক্কারানুভাবেন য়াব নিব্বানস্স পত্তি তাব জাতি জাতিয়ং সুখং সম্পত্তি সমঙ্গি ভূতেন সংসারত্বা নিব্বানং পাপুনিতু পত্থনং করোমি।

পঞ্চশীল গ্রহনের নিয়ম

প্রথমে বুদ্ধ বন্দনা
বুদ্ধং বন্দামি, ধম্মং বন্দামি, সঙ্ঘং বন্দামি।
দুতিয়ম্পি- বুদ্ধং বন্দামি, ধম্মং বন্দামি, সঙ্ঘং বন্দামি।
ততিয়ম্পি- বুদ্ধং বন্দামি, ধম্মং বন্দামি, সঙ্ঘং বন্দামি।

ভিক্ষু বন্দনা
ওকাস বন্দামি ভন্তে দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে।
দুতিয়ম্পি- ওকাস বন্দামি ভন্তে দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে।
ততিয়ম্পি – ওকাস বন্দামি ভন্তে দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে।

পঞ্চশীল প্রার্থনা
ওকাস অহং ভন্তে ত্রিসরণেন সহ পঞ্চসীলং ধম্মং যাচামি অনু¹হং কত্বা সীলং দেথ মে ভন্তে।
দুতিয়ম্পি- ওকাস অহং ভন্তে ত্রিসরণেন সহ পঞ্চসীলং ধম্মং যাচামি অনু¹হং কত্বা সীলং দেথ মে ভন্তে।
ততিয়ম্পি- ওকাস অহং ভন্তে ত্রিসরণেন সহ পঞ্চসীলং ধম্মং যাচামি অনু¹হং কত্বা সীলং দেথ মে ভন্তে।

এরপর ভিক্ষু বলবেন
ভিক্ষু- যমহং বদামি তং বদেথা ( একজন হলে বদেহি)
গৃহী-  আম ভন্তে।
ভিক্ষু- নমোতস্স ভগবতো অরহতো সম্মাসম্বুদ্ধস্স।
গৃহী- নমোতস্স ভগবতো অরহতো সম্মাসম্বুদ্ধস্স। (তিনবার)

এরপর ত্রিশরণ ভিক্ষুর সাথে সাথে বলতে হবে
বুদ্ধ সরণং গচ্ছামি,
ধম্মং সরণ গচ্ছামি,
সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি ।
দুতিযম্পি- বুদ্ধ সরণং গচ্ছামি,
দুতিযম্পি- ধম্মং সরণ গচ্ছামি,
দুতিযম্পি- সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি ।
ততিয়ম্পি- বুদ্ধ সরণং গচ্ছামি,
ততিয়ম্পি- ধম্মং সরণ গচ্ছামি,
ততিয়ম্পি- সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি ।

ভিক্ষু- তিসরণ গমনং সম্পন্নং।
গৃহী-  আম ভন্তে।

১.    পানাতি পাতা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
২.    আদিন্নদানা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
৩.    কামেসু মিচ্ছাচারা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
৪.    মুসাবদাবেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
৫.    সুরা মেরেয় মজ্জ পমাদট্ঠানা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
ভিক্ষু-  সাধু, সাধু, সাধু, ইমং তিসরণেন সহ পঞ্চসীলং ধম্মং সাধুকং সুরক্খিতং কত্বা অপ্পমাদেন সীলং সম্পাদেথ।

অষ্টশীল গ্রহনের নিয়ম

প্রথমে বুদ্ধ বন্দনা
বুদ্ধং বন্দামি, ধম্মং বন্দামি, সঙ্ঘং বন্দামি।
দুতিয়ম্পি- বুদ্ধং বন্দামি, ধম্মং বন্দামি, সঙ্ঘং বন্দামি।
ততিয়ম্পি- বুদ্ধং বন্দামি, ধম্মং বন্দামি, সঙ্ঘং বন্দামি।

এর পর ভিক্ষু বন্দনা
ওকাস বন্দামি ভন্তে দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে।
দুতিয়ম্পি- ওকাস বন্দামি ভন্তে দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে।
ততিয়ম্পি – ওকাস বন্দামি ভন্তে দ্বারত্তযেন কতং সব্বং অপরাধং খমতু মে ভন্তে।

এরপর পঞ্চশীল প্রার্থনা
ওকাস অহং ভন্তে ত্রিসরণেন সহ অষ্টাঙ্গ সমন্নগতং  উপসথোসীলং ধম্মং যাচামি অনু¹হং কত্বা সীলং দেথ মে ভন্তে।
দুতিয়ম্পি- ওকাস অহং ভন্তে ত্রিসরণেন সহ অষ্টাঙ্গ সমন্নগতং  উপসথোসীলং ধম্মং যাচামি অনু¹হং কত্বা সীলং দেথ মে ভন্তে।
ততিয়ম্পি- ওকাস অহং ভন্তে ত্রিসরণেন সহ অষ্টাঙ্গ সমন্নগতং  উপসথোসীলং ধম্মং যাচামি অনু¹হং কত্বা সীলং দেথ মে ভন্তে।

এরপর ভিক্ষু বলবেন
ভিক্ষু- যমহং বদামি তং বদেথা ( একজন হলে বদেহি)
গৃহী-  আম ভন্তে।
ভিক্ষু- নমোতস্স ভগবতো অরহতো সম্মাসম্বুদ্ধস্স।
গৃহী- নমোতস্স ভগবতো অরহতো সম্মাসম্বুদ্ধস্স। (তিনবার)

এরপর ত্রিশরণ ভিক্ষুর সাথে সাথে বলতে হবে
বুদ্ধ সরণং গচ্ছামি,
ধম্মং সরণ গচ্ছামি,
সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি ।
দুতিযম্পি- বুদ্ধ সরণং গচ্ছামি,
দুতিযম্পি- ধম্মং সরণ গচ্ছামি,
দুতিযম্পি- সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি ।
ততিয়ম্পি- বুদ্ধ সরণং গচ্ছামি,
ততিয়ম্পি- ধম্মং সরণ গচ্ছামি,
ততিয়ম্পি- সঙ্ঘং সরণং গচ্ছামি ।

ভিক্ষু- তিসরণ গমনং সম্পন্নং।
গৃহী-  আম ভন্তে।

১.পানাতি পাতা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
২.আদিন্নদানা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
৩.অব্রহ্ম চরিয়া বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
৪.মুসাবদাবেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
৫.সুরা মেরেয় মজ্জ পমাদট্ঠানা বেরমণী সিক্খাপদং সমাদিয়ামি।
৬.
ভিক্ষু-  সাধু, সাধু, সাধু, ইমং তিসরণেন সহ পঞ্চসীলং ধম্মং সাধুকং সুরক্খিতং কত্বা অপ্পমাদেন সীলং সম্পাদেথ।

গৌতম বুদ্ধ এবং ২৮বুদ্ধ

সংস্কৃত ‘বুদ্ধ’ শব্দের অর্থ যিনি পরম শাশ্বত বোধ বা জ্ঞান লাভ করেছেন। বৌদ্ধ ধর্মানুসারে তিনিই ‘বুদ্ধ’ যিনি জগতের সার সত্য সম্বন্ধে অবগত হয়েছেন এবং নিজে নির্বাণলাভের পূর্বে ধরিত্রীর সকল জীবকে নির্বাণলাভের উপায় উপদেশ করে গেছেন। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি ২৮ জন বুদ্ধ গত হয়েছেন । আমরা এখন ২৮তম বুদ্ধ – গৌতম বুদ্ধ এর ধর্মকাল অবস্থান করছি , গৌতম বুদ্ধের ধর্মের ব্যপ্তিকাল মোট ৫০০০ বছর ,বর্তমানে আমরা এই ধর্মকালের ২৫৫৪ বছরে আছি। আরো ২৪৪৬ বছর পর আরো একজন বুদ্ধ আবির্ভাব হবেন । তিনি হচ্ছেন মৈত্রীয় বুদ্ধ। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি যেসব বুদ্ধ গত হয়েছেন , তারা হলেন


১। তৃষঙ্কর বুদ্ধ
২। মেধঙ্কর বুদ্ধ
৩। শরণংকর বুদ্ধ
৪। দীপংকর বুদ্ধ
৫। কোন্ডণ্য বুদ্ধ
৬। সুমঙ্গল বুদ্ধ
৭। সুমন বুদ্ধ
৮। রেবত বুদ্ধ
৯। সোভিত বুদ্ধ
১০। অনোমদর্শী বুদ্ধ
১১। পদুম বুদ্ধ
১২। নারদ বুদ্ধ
১৩। পদুমুত্তর বুদ্ধ
১৪। সুমেধ বুদ্ধ
১৫। সুজাত বুদ্ধ
১৬। প্রিয়দর্শী বুদ্ধ
১৭। অর্থদর্শী বুদ্ধ
১৮। ধর্মদর্শী বুদ্ধ
১৯। সিদ্ধার্থ বুদ্ধ
২০। তিষ্য বুদ্ধ
২১। ফুসস্ বুদ্ধ
২২। বিপশী বুদ্ধ
২৩। সিখী বুদ্ধ
২৪। বেসস্ভূবুদ্ধ
২৫। কুকুসন্ধ বুদ্ধ
২৬। কোণাগমন বুদ্ধ
২৭। কশ্যপ বুদ্ধ
২৮। গৌতম বুদ্ধ

গৌতম বুদ্ধ (পালি: গোতম) বা শাক্যমুনি বুদ্ধ হলেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা। জন্মের পর তাঁর নাম ছিল সিদ্ধার্থ গৌতম। আধ্যাত্মিক সাধনা ও জীবন নিয়ে নিজস্ব জ্ঞান-উপলব্ধির পর তিনি বুদ্ধ নামটি গ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম ৬২৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ এবং পরিনির্বাণ সাল ৫৪৩ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ ।

প্রথম জীবনঃ সিদ্ধার্থের পিতা ছিলেন শাক্য বংশীয় রাজা শুদ্ধোদন। মাতা মায়াদেবী। মায়াদেবী কপিলাবস্তু থেকে পিতার রাজ্যে যাবার পথে লুম্বিনি গ্রামে (অধুনা নেপালের অন্তর্গত) সিদ্ধার্থের জন্ম দেন। তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে মায়াদেবীর জীবনাবসান হয়। পরে তিনি বিমাতা গৌতমী কতৃক লালিত হন। ধারণা করা হয় তাঁর নামের “গৌতম” অংশটি বিমাতার নাম থেকেই এসেছে। আবার কারও কারও মতে এটি তাঁর পারিবারিক নাম। জন্মের পঞ্চম দিনে রাজা ৮ জন জ্ঞানী ব্যক্তিকে সদ্যোজাত শিশুর নামকরণ ও ভবিষ্যৎ বলার জন্য ডাকেন। তাঁর নাম দেওয়া হয় সিদ্ধার্থ – “যে সিদ্ধিলাভ করেছে, বা যার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে”। তাঁদের মধ্যে একজন বলেন, রাজকুমার একদিন সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে যাবেন এবং বোধিপ্রাপ্ত হবেন। একজন রাজপুত্র হিসেবে সিদ্ধার্থ বিভিন্ন শাখায় শিক্ষা লাভ করেন।

সিদ্ধার্থ গৌতমের বিবাহ সম্বন্ধে দুধরনের মত আছে। প্রথম মত অনুসারে ১৬ বছর বয়সে তিনি একটি প্রতিযোগিতায় তাঁর স্ত্রীকে লাভ করেন। অতঃপর পুত্র রাহুল জন্মগ্রহণ করে। আর একটি মত অনুসারে ২৮ বছর বয়সে তাঁকে সংসারের প্রতি মনোযোগী করার জন্য তাঁর পিতামাতা তাঁকে রাজকন্যা যশোধরার সাথে বিবাহ দেন। পরবর্তী বছরে জন্ম নেয় পুত্র রাহুল।

মহানিষ্ক্রমণঃ কথিত আছে, একদিন রাজকুমার সিদ্ধার্থ বেড়াতে বের হলে ৪ জন ব্যক্তির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। প্রথমে তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ, অতঃপর একজন অসুস্থ মানুষ এবং শেষে একজন মৃত মানুষকে দেখতে পান। তিনি তাঁর সহিস চন্নকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে, চন্ন তাঁকে বুঝিয়ে বলেন যে এটিই সকল মানুষের নিয়তি। আবার একদিন (কারও কারও মতে সেদিনই) তিনি চন্নকে নিয়ে বের হলেন। এবারে তিনি দেখা পেলেন একজন সাধুর, যিনি মুণ্ডিতমস্তক এবং পীতবর্ণের জীর্ণ বাস পরিহিত। চন্নকে এঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন উনি একজন সন্ন্যাসী, যিনি নিজ জীবন ত্যাগ করেছেন মানুষের দুঃখের জন্য। রাজকুমার সিদ্ধার্থ সেই রাত্রেই ঘুমন্ত স্ত্রী, পুত্র, পরিবারকে নিঃশব্দ বিদায় জানিয়ে তিনি প্রাসাদ ত্যাগ করেন। সাথে নিলেন চন্নকে। প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে বনের শেষ প্রান্তে পৌঁছিয়ে তিনি থামলেন। তলোয়ার দিয়ে কেটে ফেললেন তার লম্বা চুল। অতঃপর চন্নকে বিদায় জানিয়ে যাত্রা শুরু করলেন জ্ঞানান্বেষণে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে। সিদ্ধার্থের এই যাত্রাকেই বলা হয় মহানিষ্ক্রমণ।
বোধিলাভঃ দুঃখ ও দুঃখের কারণ সম্বন্ধে জানতে সিদ্ধার্থ যাত্রা অব্যাহত রাখেন। প্রথমে তিনি আলারা নামক একজন সন্ন্যাসীর কাছে যান। তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট হতে না পেরে তিনি যান উদ্দক নামক আর একজনের কাছে। কিন্তু এখানেও কোনও ফল পেলেন না। এভাবে কিছু দিন যাবার পর তিনি মগধের উরুবিল্ব নামক স্থানে গমন করেন। সেখানে প্রথমে একটি উত্তর-পূর্বমুখি শিলাখণ্ডের উপর বোধিসত্ত্ব জানু পেতে বসে আপন মনেই বলেছিলেন যে, “যদি আমাকে বুদ্ধত্বলাভ করতে হয় তা হলে বুদ্ধের একটি প্রতিচ্ছায়া আমার সম্মুখে দৃশ্যমান হোক।” এই কথা উচ্চারিত হবার সঙ্গে সঙ্গে শিলাখণ্ডের গায়ে তিন ফিট উঁচু একটি বুদ্ধের প্রতিচ্ছায়া প্রতিফলিত হল। বোধিসত্ত্ব তপস্যায় বসার পূর্বে দৈববাণী হয় যে, “বুদ্ধত্ব লাভ করতে গেলে এখানে বসলে চলবে না; এখান থেকে অর্ধযোজন দূরে পত্রবৃক্ষতলে তপস্যায় বসতে হবে।” এরপর দেবগণ বোধিসত্ত্বকে সঙ্গে করে এগিয়ে নিয়ে যান। মধ্যপথে একজন দেবতা ভূমি থেকে একগাছা কুশ ছিঁড়ে নিয়ে বোধিসত্ত্বকে দিয়ে বলেন যে, এই কুশই সফলতার নিদর্শন স্বরূপ। বোধিসত্ত্ব কুশগ্রহণের পর প্রায় পাঁচ শত হাত অগ্রসর হন এবং পত্রবৃক্ষতলে ভূমিতে কুশগাছটি রেখে পূর্বমুখি হয়ে তপস্যায় বসেন। কঠোর সাধনার ফলে তাঁর শরীর ক্ষয়ে যায়। কিন্তু এ তপস্যায় তিনি ভয়, লোভ ও লালসাকে অতিক্রম করে নিজের মনের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে সক্ষম হলেন। সহসা তিনি বুঝতে পারলেন এভাবে বোধিলাভ হবে না। তিনি তাই আবার খাদ্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন। সুজাতা নাম্নী এক নারীর কাছ থেকে তিনি এক পাত্র পরমান্ন আহার করলেন। অতঃপর তিনি নদীতে স্নান করে পুনরায় ধ্যানরত হন। অবশেষে কঠোর তপস্যার পর তিনি বুদ্ধত্বপ্রাপ্ত হলেন। শাক্যমুনি বোধিলাভের পর সাতদিন ধরে বোধিবৃক্ষের দিকে তাকিয়ে থেকে বিমুক্তিলাভের আনন্দ উপভোগ করেন। তিনি দুঃখ, দুঃখের কারণ, প্রতিকার প্রভৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করলেন। এ ঘটনাটিই বোধিলাভ নামে পরিচিত।

মহাপরিনির্বাণ লাভঃ সমস্ত জীবন ধরে তাঁর দর্শন এবং বাণী প্রচার করে অবশেষে আনুমানিক ৫৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ৮০ বছর বয়সে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে কুশীনগরে ভগবান তথাগত মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।

লেখার সূত্র: উইকিপিডিয়া

tags-28 Buddha

সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম

এক সময় ভগবান বুদ্ধ অজাতশত্রুর অমাত্যকে উপলক্ষ্য করে আনন্দকে বলেছিলেন – আনন্দ! ইহলোকে যারা সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মে সম্যকরূপে প্রতিষ্ঠিত থাকবে তাহাদেরকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। বরং ইহা তাদের ভবিষ্যতের সুখের কারণ হয়ে থাকে। সেই সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম হচ্ছে –

১) যারা সভা-সমিতিতে সর্বদা একত্রে একত্রিত হয়।

২) সর্বদা একাতাবদ্ধ ভাবে একত্রিত হয় এবং সভার শেষে সকলে একসঙ্গে চলে যায় এবং সভায় প্রস্তাবিত কাজ একযোগে সম্পাদন করে।

৩) যারা দেশে ও সমাজে কুনীতির প্রবর্তন করে না, পূর্বে নির্ধারিত সূনীতির উচ্ছেদ সাধন করে না বরং প্রাচীন সুনীতি যথাযথভাবে মেনে চলে।

৪) যারা বুদ্ধগণকে সৎকার, গৌরব, সম্মান ও পূজা করে এবং তাদের বাক্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করে।

৫) যারা কোন কূল স্ত্রী বা কূল কুমারীদের সতীত্ব নষ্ট করে না; বরং ধর্ম দ্বারে নারীদেরকে স্বাধীনতা প্রদান করে।

৬) গ্রাম - মধ্যে ও গ্রামের বাইরে যেসব চৈত্য আছে, যারা সেই চৈত্যর সৎকার,  গৌরব, সম্মান ও পূজা করে এবং সেই চৈত্য সমূহের পূর্বে প্রচলিত ধর্মত দানকর্ম ও পূজার পরিহানি করে না।

৭) যারা অর্হৎ ও শীলবানদের ধর্মত রক্ষা করে, পালন কর, তাহাদের সুখ-সুবিধার সুব্যবস্থা করে এবং যেই দেশের অর্হৎগণ আসেন নাই, তারা কি প্রকারে দেশে আসিবেন, উপস্থিত অর্হৎগণ  দেশে নিরাপদে বাস করিতেছেন কিনা সর্বদা অনুসন্ধান করে; তাহাদের শ্রীবৃদ্ধি হয়ে থাকে, পরিহানি হয় না । তাদের কেউ পরাজিত করতে পারে না।

বর্তমানে বাঙ্গালী বৌদ্ধ জাতি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ এ লিপ্ত। সময়ের প্রয়োজনে বৌদ্ধ জাতিকে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সংকল্প করতে হবে।

Tags - SoptoOporihaiya Dhamma, সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম

কিশোর জাতক সমগ্র By শ্রী অঞ্জন ভৌমিক pdf


কিশোর জাতক সমগ্র By  শ্রী অঞ্জন ভৌমিক pdf

ই-বুকের নাম-  কিশোর জাতক সমগ্র
লেখক :   শ্রী অঞ্জন ভৌমিক

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

Click here for download this file-   কিশোর জাতক সমগ্র By  শ্রী অঞ্জন ভৌমিক pdf

বৌদ্ধ গান ও দোহা By হরপ্রসাদ শাস্ত্রী



বৌদ্ধ গান ও দোহা By  হরপ্রসাদ শাস্ত্রীpdf

ই-বুকের নাম-  বৌদ্ধ গান ও দোহা 
লেখক :   হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

বৌদ্ধ জীবন by ভিক্ষুসংঘ (দীঘিনালা বনবিহার)

 




বৌদ্ধ জীবন by ভিক্ষুসংঘ (দীঘিনালা বনবিহার)pdf

ই-বুকের নাম-  বৌদ্ধ জীবন 
লেখক :   ভিক্ষুসংঘ (দীঘিনালা বনবিহার)

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

বৌদ্ধ তীর্থ ভ্রমণ by বটুকেশ্বর বড়ুয়া

 


বৌদ্ধ তীর্থ ভ্রমণ by বটুকেশ্বর বড়ুয়া pdf

ই-বুকের নাম-  বৌদ্ধ তীর্থ ভ্রমণ 
লেখক :  বটুকেশ্বর বড়ুয়া

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

বৌদ্ধধর্মে গৃহী বিনয় বিধান ও ধর্মকর্ম by শান্তিভূষণ চাকমা

 


বৌদ্ধধর্মে গৃহী বিনয় বিধান ও ধর্মকর্ম by শান্তিভূষণ চাকমাpdf

ই-বুকের নামবৌদ্ধধর্মে গৃহী বিনয় বিধান ও ধর্মকর্ম 
লেখক :  শান্তিভূষণ চাকমা

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

বৌদ্ধিক চিন্তায় আদর্শ বৌদ্ধ জীবন ও সমাজ by প্রজ্ঞাবংশ মহাথের

 



বৌদ্ধিক চিন্তায় আদর্শ বৌদ্ধ জীবন ও সমাজ by প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরpdf

ই-বুকের নাম-  বৌদ্ধিক চিন্তায় আদর্শ বৌদ্ধ জীবন ও সমাজ
লেখক :  প্রজ্ঞাবংশ মহাথের

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

পরমার্থ শীল ধুতাংগ অনুশীলন ও গৃহী কতব্য - শ্রদ্ধেয় বন ভান্তে

 

পরমার্থ শীল ধুতাংগ অনুশীলন ও গৃহী কতব্য - শ্রদ্ধেয় বন ভান্তে pdf

ই-বুকের নাম-  পরমার্থ শীল ধুতাংগ অনুশীলন ও গৃহী কতব্য
লেখক :  শ্রদ্ধেয় বন ভান্তে 

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা




বিশুদ্ধিমার্গ PDF by জ্ঞানশান্ত ভিক্ষু

 


বিশুদ্ধিমার্গ by জ্ঞানশান্ত ভিক্ষু pdf

ই-বুকের নাম- বিশুদ্ধিমার্গ 
লেখক :  জ্ঞানশান্ত ভিক্ষু

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

BOOK জীবক PDF by শীলালংকার মহাস্থবির

 


জীবক by শীলালংকার মহাস্থবির pdf

ই-বুকের নাম-  জীবক
লেখক :  শীলালংকার মহাস্থবির

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা

বৌদ্ধ সভ্যতা ও বৌদ্ধকীর্তি দেশে দেশে PDF By জ্যোতি বিকাশ বড়ুয়া

 


বৌদ্ধ সভ্যতা ও বৌদ্ধকীর্তি দেশে দেশে By  জ্যোতি বিকাশ বড়ুয়া


ই-বুকের নাম- বৌদ্ধ সভ্যতা ও বৌদ্ধকীর্তি দেশে দেশে 
লেখক :  জ্যোতি বিকাশ বড়ুয়া

ফরম্যাট- পি.ডি.ফ

ভাষা- বাংলা